Why we celebrate Teachers’ Day on 5th September

প্রতি বছর ৫ই সেপ্টেম্বর ছাত্রছাত্রীরা যেমন তাদের প্রিয় ও শ্রদ্ধেয় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সাথে শিক্ষক দিবস পালন করে তেমনি প্রতিটি শিক্ষক-শিক্ষিকার মনেও তাদের শিক্ষক-শিক্ষিকার উদ্দেশ্যে শিক্ষক দিবস পালনের ইচ্ছা আসে যাদের জন্য তারা আজ এই অবস্থানে আছে, যাদের সহযোগিতা ছাড়া এই অবস্থানে হয়তো পৌছানো সম্ভব হত না।

৫ই সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবস পালিত হয়, এই দিনটি ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের জন্মদিন এবং তার জন্মদিন উপলক্ষেই এই দিনটি শিক্ষক দিবস হিসাবে পালিত হয়।

কিন্তু কেন তার জন্মদিনেই শিক্ষক দিবস পালিত হয়? অন্য আরো অনেক মহাপুরুষের জন্মদিনে কেন নয়?

এর উত্তর আছে ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের জীবনেই। তাহলে তার জীবন সম্পর্কে সংক্ষেপে জেনে নেওয়া যাক।

তিনি শিক্ষাকে প্রচন্ড ভালোবাসতেন, বিশ্বাস করতেন ভালো শিক্ষা একটা সমাজকে সকল দুঃখ-দুর্দশা থেকে মুক্ত করতে পারে, দেশের জরাজীর্ণ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে প্রয়োজন সঠিক শিক্ষার। এবং এই শিক্ষার চালক হলেন শিক্ষকরা। শিক্ষকরা তার শিক্ষাদানের মাধ্যমে সমাজ তথা দেশের সেবা করে দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে পারে।

ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, তামিলনাড়ু রাজ্যের একটি ছোট্ট শহর তিরুতানিতে।

তার বাবা ছিলেন একজন পুরোহিত এবং তিনি চাইতেন যেন তার ছেলেও পুরোহিত হোক। কিন্তু প্রতিভাকে কখনো লুকিয়ে রাখা যায় না । ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনকে তার বাব স্কুল পাঠাতে বাধ্য হলেন। এরপর তিনি তিরুপতি ও ভেলোরে পড়াশোনা করেন।

মাত্র ২১ বছর বয়সে মাদ্রাস প্রেসিডেন্সি কলেজে তিনি প্রথমবার দর্শনশাস্ত্র পড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন। পরবর্তীকালে মাত্র ২৯ বছর বয়সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শনের পূর্ণ অধ্যাপক হিসাবে যোগ দেন।

দেশের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানসূচক চেয়ার- The King George V Chair of Mental and Moral Science এ তিনি ছিলেন মাত্র ৩২ বছর বয়সে।

১৯২০-র দিকে তিনি ইংল্যান্ডের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শনের অধ্যাপক হিসাবে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন।

তার শিক্ষক জীবনের শুরু থেকে দেশের কাজের দায়িত্ব গ্রহণ অবধি ১৯০৯ থেকে ১৯৪৮ পর্যন্ত দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে অসাধারণ দক্ষতার সাথে শিক্ষকতা করেছেন।

১৯৪৮ সালে তিনি দেশের উচ্চশিক্ষার উন্নতি সাধনের উদ্দেশ্যে রাধাকৃষ্ণন কমিশন গঠন করেন।

১৯৫২ সালে তিনি ভারতের উপরাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হন এবং তার দশ বছর পর ১৯৬২ সালে তিনি ভারতের সর্বোচ্চ পদ রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হন।

তিনি  একজন বিনয়ী , কর্মজীবনে সম্পূর্ণ সফল হওয়া সত্বেও শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন- ছাত্রদের কেবল নির্দেশই না দিয়ে তাদেরকে স্নেহও করতে হবে।

ভারতের রাষ্ট্রপতি হিসাবে তিনি কখনো তার সম্পূর্ণ বেতন নিতেন না। সেই সময় আমাদের দেশের অবস্থা খুব খারাপ ছিল তাই তিনি প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ তহবিলে তার বেতনের এক চতুর্থাং নিয়িমিতভাবে দান করতেন।

এরপর বলছি কেন আমরা ৫ই সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবস পালন করিঃ-

ডঃ রাধাকৃষ্ণন তার ছাত্রদের কাছে খুবই প্রিয় ছিলেন। তাই তার শিক্ষক জীবন শেষ হবার পরেও কিছু ছাত্র তার জন্মদিন পালন করতে চেয়েছিলেন। সেইসময় তিনি তার ছাত্রদের অনুরোধ করেন- “আমার জন্মদিন পালনের পরিবর্তে ৫ই সেপ্টেম্বরকে শিক্ষক দিবস হিসাবে পালন করলে আমার গর্ব হবে।

তিনি বলেছিলেন-“ Instead of celebrating my birthday, it would be my proud privilege if 5th September is observed as Teachers’ Day.

তিনি জাতীয় স্তরের একজন মুক্তমনা পন্ডিত এবং দয়ালু মানুষ হিসাবেই পরিচিত ছিলেন। যদিও রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন তার মন্ত্রীদের কাছে তার চিঠির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকের মতোই তার দৃঢ় বাচনভঙ্গি লক্ষ্য করা যেত। শিক্ষকদের সাথে ৫ই সেপ্টেম্বরের এই পবিত্র সম্পর্ক যিনি স্থাপন করেছেন, শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও শিক্ষার জন্য যিনি অনেক কিছু করে গেছেন তার প্রতি আমরা চিরকৃতজ্ঞ ও চিরঋণী থাকব।

Leave a Comment

error: Content is protected !!